সুরাইয়া জান্নাত, উপ-জনসংযোগ সম্পাদক
আমাদের দৈনন্দিন জীবন ব্যস্ততায় ভরা। এই ব্যস্ততায় এড়িয়ে যায় প্রকৃতির ছোট ছোট দৃশ্য যেগুলো একটু খেয়াল করলে তাদের রূপে-গুণে মুগ্ধ হতে আমরা বাধ্য। তেমনি এক সৌন্দর্য আমাদের ক্যাম্পাসের চারদিকে ফুটে থাকা ছোট্ট ছোট্ট ঘাসফুল । এই ছোট্ট ফুলটি আমাদের চোখে যতটা সাধারণ মনে হয়, ততটাই অসাধারণ এর সৌন্দর্য, সহনশীলতা ও প্রভাব।


কোনো দামি পরিচর্যা ছাড়াই ঘাসফুল রাস্তা,ক্ষেত,মাঠের আনাচে কানাচে ফুটে থাকে।অযত্নে থাকা সত্ত্বেও এটি সরল মনে মাথা দুলায় বাতাসে, হাসতে থাকে নিজের খেয়ালে।হালকা রঙের পাঁপড়ি আর সরল গঠন এই ফুলকে করে তোলে প্রকৃতির বিনম্র দূত, যার সৌন্দর্য নজর কাড়ে নিঃশব্দে।
বাংলা সাহিত্যে বিভিন্ন কবি ভিন্ন ভিন্ন সময়ে এই মনোমুগ্ধকর ঘাসফুল নিয়ে তাদের কবিতার ছন্দ সাজিয়েছেন। কারো কাছে এরা সরলতার প্রতীক, কারো কাছে এই ছোট্ট ফুল প্রেম, ভালোবাসা, যন্ত্রণা বা জীবনের গভীরতা উপমা।


ক্যাম্পাসের সেন্ট্রাল ফিল্ডে ফুটে থাকা ঘাসফুল যেন এক নিঃশব্দ সৌন্দর্যের উৎস। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী যখন ক্লাসে ছুটে চলে, আড্ডায় মেতে ওঠে বা মাঠ পেরিয়ে হাঁটে, তখন সেখানেই নিঃশব্দে মাথা দোলায় ছোট ছোট ঘাসফুল। কোনো বিশেষ পরিচর্যা ছাড়া, নিজস্ব গতিতে বেড়ে ওঠা এই ফুলগুলো যেন জীবনের প্রতিকূলতার মাঝেও টিকে থাকার প্রতিচ্ছবি। নরম ঘাসের ফাঁকে ফাঁকে ফুটে থাকা এই ফুলগুলোর সরলতা আর শান্ত রূপ যেন ক্লান্ত মনকে ছুঁয়ে যায়। মাঝে মাঝে ব্যস্ততার মাঝে একটু বসে পড়লেই চোখে পড়ে এই শুভ্র বা হালকা বর্ণের ফুল, যেগুলো কোনো কথা না বলেই যেন বলে দেয়— “শান্ত হও, জীবন এখনও সুন্দর।”


ঘাসফুলের জীবনীশক্তি অত্যন্ত শক্তিশালী। খরা হোক বা বৃষ্টি, রুক্ষ মাটি হোক বা অনুর্বর জমি—ঘাসফুল কোনো অভিযোগ ছাড়াই বেড়ে ওঠে। এই নিরব সহনশীলতা আমাদের জীবনের জন্য এক অসাধারণ অনুপ্রেরণা। প্রতিকূলতার মাঝেও কীভাবে নিজেকে টিকিয়ে রাখা যায়, ঘাসফুল যেন সেই পাঠই পড়ায় আমাদের।ঘাসফুল আমাদের শিখায় ভালো থাকতে বড়কিছু হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না, প্রয়োজন পড়ে নিজেকে ভালোবাসার।ক্যাম্পাসের ব্যস্ততার ভিড়ে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখন মাঠের ধারে অজান্তেই চোখে পড়ে এই ছোট্ট শুভ্র ঘাসফুলে।





