সবুজ শ্যামলিমায় ঘেরা নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস যেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অবারিত লীলাভূমি। আর এই সৌন্দর্যের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন ঠাঁই করে নিয়েছে ক্যাম্পাসের অন্যতম আকর্ষণ ‘ময়নাদ্বীপ’। ঋতুচক্রের আবর্তনে এই জলবেষ্টিত দ্বীপটি বর্তমানে এক অপূর্ব রূপ ধারণ করেছে, যেখানে নীল আকাশ আর সবুজের বুক চিরে জেগে উঠেছে সাদা বকের দল।
সরেজমিনে ময়নাদ্বীপ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দ্বীপের শান্ত জলরাশি এখন আর দেখা যাচ্ছে না। তার পরিবর্তে স্থান করে নিয়েছে ঘন সবুজ কচুরিপানা।
কচুরিপানাকে সাধারণত আগাছা মনে করা হলেও, এর মায়াবী ফুলগুলো ময়নাদ্বীপকে দিয়েছে এক অন্যরকম আভিজাত্য। থোকায় থোকায় ফুটে থাকা এই ফুলগুলোর মাঝখানে হলদেটে আভা আর পাপড়ির নীলচে-বেগুনি রঙ দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন জলে অসংখ্য প্রজাপতি ডানা মেলে বসে আছে। রোদের আলো যখন এই স্নিগ্ধ ফুলগুলোর ওপর পড়ে, তখন চারপাশের সবুজ প্রকৃতির সাথে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য তৈরি হয়, যা যে কাউকেই থমকে দাঁড়াতে বাধ্য করে। সাদা বকের দল যখন এই ফুলের গালিচার ওপর দিয়ে হেঁটে বেড়ায়, তখন মনে হয় প্রকৃতি যেন তার সবচেয়ে সুন্দর রঙগুলো দিয়ে এই ক্যানভাসটি সাজিয়েছে।
ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এই মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে আসে ময়নাদ্বীপের পাড়ে। নীল আকাশ, তীরের সারি সারি কলাগাছ আর বনভূমির পটভূমিতে এই সাদা বকের মেলা যেন কোনো নিপুণ চিত্রকরের আঁকা ছবি। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার ব্যস্ততার ফাঁকে এই প্রাকৃতিক পরিবেশ শিক্ষার্থীদের মনের প্রশান্তি জোগায়।
প্রকৃতি ও পাখির এই সহাবস্থান ক্যাম্পাসের জীববৈচিত্র্যকে যেমন সমৃদ্ধ করেছে, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকেও করেছে আরও প্রাণবন্ত। তবে দর্শনার্থী ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি প্রকৃতিপ্রেমীদের আহ্বান, এই পাখিদের বিচরণ যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়। মানুষের সামান্য সচেতনতাই পারে ময়নাদ্বীপের এই শৈল্পিক রূপকে চিরস্থায়ী করতে।
লেখা: ফাবিহা ফাইজা, যুগ্ম প্রচার সম্পাদক।
ছবি: খাদিজা জাহান।





























