লেখা: ফাবিহা ফাইজা, যুগ্ম প্রচার সম্পাদক।
হলদে হাসিতে সেজেছে উপকূলের অক্সফোর্ড: নোবিপ্রবিতে সূর্যমুখীর মেলা।
বসন্তের তপ্ত দুপুরে নীল আকাশের নিচে যখন দিগন্তজোড়া হলুদের আভা খেলা করে, তখন চোখ ফেরানো কঠিন হয়ে পড়ে। উপকূলীয় জনপদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) এখন ঠিক তেমনই এক মায়াবী রূপে সেজেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনগুলোর আঙিনাজুড়ে ফুটে উঠেছে হাজারো সূর্যমুখী, ছড়িয়ে দিচ্ছে প্রশান্তির এক অনন্য আবেশ।
প্রতিবারের মতো এবারও ক্যাম্পাসের দুইটি ভিন্ন স্থানে বৃহৎ পরিসরে সূর্যমুখীর চাষ করা হয়েছে। এর একটি একাডেমিক ভবন-২ এর সম্মুখভাগে অবস্থিত। ক্লাস ও পরীক্ষার চাপের মাঝে শিক্ষার্থীরা যখন বারান্দায় এসে দাঁড়ান, চোখে পড়ে বাতাসে দুলতে থাকা সোনালি ফুলের সমারোহ। সূর্যের দিকে মুখ ঘুরিয়ে থাকা এই ফুলগুলো যেন ভবনের গাম্ভীর্যে এনে দেয় স্নিগ্ধতার পরশ।
অন্যদিকে, একাডেমিক ভবন-১ এর পেছনের অংশে দেখা যায় আরেকটি মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। সারি সারি সূর্যমুখী যেন প্রকৃতির নিজ হাতে সাজানো এক নিঃশব্দ শিল্পকর্ম। কোলাহলমুক্ত এই প্রান্তটি এখন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রিয় আড্ডাস্থল। সকালে শিশিরভেজা আলোয় যেমন ঝলমল করে ওঠে বাগান, তেমনি বিকেলের গোধূলিতে তৈরি হয় এক কাব্যিক আবহ।
এই সূর্যমুখী বাগান শুধু সৌন্দর্য বাড়ায়নি, হয়ে উঠেছে প্রাণচাঞ্চল্যের কেন্দ্রবিন্দু। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর থাকে এলাকা। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন, কেউ ব্যস্ত প্রিয় মুহূর্তগুলো ক্যামেরায় বন্দি করতে। বিশেষ করে পড়ন্ত বিকেলে এখানে ভিড় জমায় স্থানীয় দর্শনার্থীরাও।
কেবল সৌন্দর্য নয়, কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধানে এই চাষাবাদে যুক্ত রয়েছে গবেষণার নানা দিক। আবহাওয়া ও মাটির বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় উপকূলীয় অঞ্চলে সূর্যমুখী চাষের সম্ভাবনা যে কতটা কার্যকর, তার বাস্তব উদাহরণ এই বাগানগুলো। ভোজ্য তেলের সংকট নিরসনে সূর্যমুখীর গুরুত্ব যেমন শিক্ষার্থীদের সচেতন করছে, তেমনি অনুপ্রাণিত করছে ভবিষ্যৎ কৃষিবিদদের।
ইট-পাথরের ব্যস্ততার মাঝে নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসের এই সূর্যমুখী বাগান যেন এক টুকরো স্বস্তির শ্বাস। হলদে হাসির এই মেলায় দাঁড়িয়ে মনে হয়, প্রকৃতি যেন তার সমস্ত সৌন্দর্য উজাড় করে সাজিয়েছে প্রিয় এই বিদ্যাপীঠকে।
প্রকৃতির এই অপার রূপে ডুবে গেলে, ক্লান্তি হারিয়ে যাবে নিমেষেই।




















