লেখাঃ হুমাইরা আফিফা, উপ-জনসংযোগ সম্পাদক।
ছবিঃ হাবিবুল্লাহ রাকিব, মুনতাসির আবেদীন।
পবিত্র রমজান মাসে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস যেন পরিণত হয় ভ্রাতৃত্ব, সৌন্দর্য ও একাত্মতার এক উজ্জ্বল মিলনমেলায়। সূর্যাস্তের আগে থেকেই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রান্তে জড়ো হতে থাকে শিক্ষার্থীরা। বিভাগের উদ্যোগ, ক্লাবগুলোর আয়োজন এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠনের মিলিত প্রচেষ্টায় তৈরি হয় এক প্রাণবন্ত ইফতার পরিবেশ। সব মিলিয়ে পুরো ক্যাম্পাস যেন এক বৃহৎ পরিবারে রূপ নেয়।
ক্যাম্পাসজুড়ে চোখে পড়ে দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা। রঙিন বাতি, ঝলমলে আলোর মালা আর সাজানো তাঁবু রাত নামার আগেই তৈরি করে উৎসবের আবহ। ছোট ছোট ঝলমলে বাতির মালা তাঁবুর চারপাশে, গাছের ডালে কিংবা খোলা আকাশের নিচে তৈরি করে এক উষ্ণ ও স্বাগতপূর্ণ পরিবেশ। দূর থেকে দেখলে মনে হয় আলোর রেখাগুলো যেন একত্রে মিলিয়ে গেছে তারাভরা আকাশের সাথে। ইফতার ও সেহরির এই আয়োজনে আলোকসজ্জা তাই হয়ে ওঠে উৎসবের আবহ, স্মৃতির ফ্রেম এবং মিলনের প্রতীক। শুধু সৌন্দর্যের নয়, বরং ঐক্যের প্রতীক। শিক্ষার্থীরা একসাথে বসে, একই সারিতে ইফতার ভাগ করে নেয়—যেখানে পরিচয় মুছে গিয়ে থাকে কেবল বন্ধুত্ব আর সহমর্মিতা।
ইফতারের টেবিলে থাকে খেজুর, ফল, শরবত আর নানা খাবার; কিন্তু এর চেয়েও মূল্যবান হয়ে ওঠে একসাথে বসে খাওয়ার অনুভূতি। দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরা এখানে খুঁজে পায় নিজের জেলার মানুষ, নিজের বিভাগের বন্ধুরা কিংবা নতুন পরিচিত মুখ। ফলে ইফতার আয়োজনটি কেবল ধর্মীয় আচারেই সীমাবদ্ধ থাকে না, এটি হয়ে ওঠে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংযোগের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
একইভাবে পবিত্র রমজানের আরেক গুরুত্বপূর্ণ অংশ সেহরি ঘিরেও তৈরি হয় ভিন্ন এক আবহ। গভীর রাতে কিংবা ভোরের আগে বন্ধু, সহপাঠী ও সংগঠনের সদস্যরা একত্রিত হয়ে সেহরির আয়োজন করে—যেখানে ক্লান্ত রাতও পরিণত হয় গল্প, হাসি আর ভাগাভাগি করা মুহূর্তের স্মৃতিতে। রাতের নীরব ক্যাম্পাস তখন হয়ে ওঠে আন্তরিকতা ও বন্ধনের এক অন্যরকম দৃশ্যপট।
এই পুরো দৃশ্যকে নান্দনিকভাবে ধারণ করে NSTU Photography Club-এর আলোকচিত্রীদের ক্যামেরা। তাদের ফ্রেমে ধরা পড়ে আলোয় সাজানো তাঁবু, সারিবদ্ধ ইফতার, আর মানুষের হাসিমাখা মুহূর্ত। প্রতিটি ছবি যেন বলে দেয়—ইফতার ও সেহরি কেবল খাবারের সময় নয়; এটি স্মৃতি, বন্ধন এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের এক উজ্জ্বল অধ্যায়।
নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসের এই সমবেত আয়োজন তাই শুধুই একটি অনুষ্ঠান নয়। এটি প্রমাণ করে যে আলোর মতোই মানুষও মানুষকে ঘিরে রাখে—ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব আর মিলনের বন্ধনে। আর সেই গল্পগুলোই নিঃশব্দে তুলে ধরে ক্যাম্পাসের প্রতিটি আলোকিত সন্ধ্যা ও ভোরের আগে শান্ত মুহূর্ত।

















